✍️ পর্ব ১: “অচেনা দেখা”
> স্থান: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
সময়: ২০১৭ সাল, বসন্তকাল
পাল্টে যাওয়া এক বিকেলের গল্প। গ্রীষ্মের শেষ আর বসন্তের শুরু। গোধূলির আলোয় রঙ ছড়াচ্ছে লাল মাটির পথ, গাছের পাতায় হালকা দোল আর বাতাসে মিশে থাকা কাশফুলের গন্ধ। এই সবকিছুর মাঝেই প্রথমবারের মতো দেখা হলো তাদের—অরণ্য আর তিলোত্তমা।
অরণ্য, সাহিত্য বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র। মিশুক না হলেও গভীর, চিন্তাশীল এক তরুণ। চোখে সবসময় যেন একরাশ গল্প লুকিয়ে থাকে। তিলোত্তমা সদ্য ভর্তি হওয়া প্রথম বর্ষের ছাত্রী, ইতিহাস বিভাগে। মুখে অদ্ভুত এক সারল্য, চোখে তীক্ষ্ণতা—যেমন ফুলের সৌন্দর্য, তেমনি কাঁটার সাহস।
সেদিন ক্যাম্পাসের লাইব্রেরির পেছনের বটতলায় অরণ্য বসে ছিল একটি বই হাতে, রবীন্দ্রনাথের "চোখের বালি"। তিলোত্তমা একপাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। বইয়ের নাম দেখে হঠাৎ সে থেমে গেল।
— "এই বইটা আপনি পড়ছেন?"
অরণ্য চমকে তাকাল। সাধারণত কেউ লাইব্রেরিতে কথা বলে না। কিন্তু এই প্রশ্ন যেন তাকে আটকে দিল।
— "হ্যাঁ... কেন?"
— "আমি এখনো শেষ করতে পারিনি। চেহারায় বিনোদিনীকে কল্পনা করতে পারছি না।"
— "চোখে দেখার দরকার নেই। মন দিয়ে পড়লে নিজেই তাকে দেখতে পাবে," অরণ্য মৃদু হেসে বলল।
তিলোত্তমার চোখ জ্বলজ্বল করছিল।
— "আপনি কী সাহিত্য বিভাগের?"
— "হুম, শেষ বর্ষ।"
— "তাহলে তো আপনি আমার সিনিয়র... আমি তিলোত্তমা।"
— "অরণ্য।"
তারপর... এক অদ্ভুত নীরবতা। যেন দুজনেই বুঝে গেল, এই দেখা হয়তো কোনকিছু শুরু হবার ইঙ্গিত।
0 Comments